স্বাধীনতা ডেস্ক
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হককে ঘিরে দৈনিক স্বাধীনতায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। নতুন করে জারি করা বদলির আদেশে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ২৯ অক্টোবর থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য করা হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের তিন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নের এ আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোহাম্মদ এনামুল হককে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই আদেশে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসানকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে সিআইডিতে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। মাহবুবুর রহমান বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সংযুক্ত রয়েছেন।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর দৈনিক স্বাধীনতায় ‘এনামের খুঁটির জোর কোথায়!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে এনামুল হকের বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়া, সিলেটে অবস্থান এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা তৈরি হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে এনামুল হককে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। তবে আদেশ জারির পরও তিনি সিলেটে অবস্থান করছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন ওঠে, বদলির আদেশ কার্যকর হতে বিলম্বের কারণ কী।
দৈনিক স্বাধীনতার ওই প্রতিবেদনে এনামুল হকের বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন, থানা ও ফাঁড়ি থেকে মাসোহারা আদায় এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। কয়েকটি নির্দিষ্ট পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়।
নতুন প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবরের মধ্যে যোগদান না করলে ২৯ অক্টোবর তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে।
